বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে ‘সাইডলাইনে’ বসানোর পরিকল্পনা ছিল: রিজভী

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দিলে তাকে সেখানে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দিলে তাকে সেখানে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল।

কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো, আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যেকোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কী পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয়?

ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। পূর্বে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা খুনিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম প্রশ্ন জেগেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে তিনি দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে।

এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page