শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

ডলার পতনে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য গত ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম। এতে করে বিগত দুই মাসের সর্ব সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটি। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ চলতি বছরে আরেক দফায় সুদের হার বাড়াবে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪১.০৯ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে বুধবার শক্তিশালী ডলার ও মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড বৃদ্ধির কারণে গত ৫ আগস্টের পর স্বর্ণের দাম সর্ব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মান কিছুটা কমায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত স্বর্ণের ক্রয়মূল্য কিছুটা সাশ্রয়ী হয়েছে।

পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণে বিনিয়োগের বাজার কিছুটা চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় রয়েছে। স্বর্ণের বাজারে নতুন করে ইতিবাচক গতি দেখতে প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ২৭৫ ডলার অতিক্রম করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে পলিসি মেকারদের মধ্যে মতভেদ ছিল। কতিপয় কর্মকর্তা মনে করেন জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে সুদের হার বাড়ানো জরুরি, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি চাহিদা বাড়ার কারণে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতি রোধে প্রয়োজন।

শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষের দিকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ থাকলেও ডিসেম্বরে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে যায়।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, লাগামহীন জ্বালানির মূল্য, রেকর্ড পরিমাণ সরকারি ঋণ এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) খাতের বিনিয়োগ থেকে আসা ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারকে সুরক্ষামূলক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রতি আউন্সে ৬০.১৮ ডলারে স্থির রয়েছে। এর বাইরে প্ল্যাটিনামের দাম ২.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬৫.০০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪২.৮৬ ডলারে পৌঁছেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page